Xi JinpingOthers World 

শি জিনপিং-কে রাষ্ট্রপতি বলা উচিত নয়, মত মার্কিন সংসদের

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ মার্কিন সংসদে একটি বিল চালু করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হননি বা চীনে গণতন্ত্রও নেই। সুতরাং, জিনপিং-কে আমেরিকাতে রাষ্ট্রপতি হিসাবে সম্বোধন করা বন্ধ করা উচিত। রিপাবলিকান পার্টির সাংসদ স্কট প্যারি সংসদে এই বিলটি পেশ করে বলেছেন, আইনসম্মতভাবে, বিলে বর্ণিত সমস্ত কিছুই সঠিক। আসলে, ১৯৮০ সালের আগে কোনও চীনা সরকার প্রধানকে প্রেসিডেন্ট অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি বলা হয়নি। শুধু তাই নয়, চীনের সংবিধানে ‘প্রেসিডেন্ট বা রাষ্ট্রপতি’ শব্দটিও অনুপস্থিত।

জিনপিং ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি হন। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) প্রধান হওয়ার কারণে তিনি এই পদ পেয়েছেন। সাংবিধানিকভাবে সিসিপি-র চেয়ারম্যানই হলেন সরকার ও সেনাবাহিনীর প্রমুখ। তবে, জিনপিংয়ের ক্ষেত্রে এটি হয় নি। সূত্রের প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, জিনপিং-ই ক্ষমতা ও দলের একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু। তিনি দলের নতুন সুপার কমিটির চেয়ারম্যানও রয়েছেন। তাই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা তাকে ‘সব কিছুর চেয়ারম্যান’ বলে অভিহিত করেন। এটি একরকম একনায়কতন্ত্রেরই পরিচয় বহন করে।

ট্রাম্পের দলের এমপি স্কট প্যারি বিলটি পেশ করেছেন। এই বিলের নাম দেওয়া হয়েছে, ‘নেইম দি এনিমি এক্ট’। প্যারি চান যে, জিনপিং বা কোনও চীনা শাসককে মার্কিন সরকারের নথিগুলিতে রাষ্ট্রপতি বলে সম্বোধন বা লেখা না হয়। বিল অনুসারে- চীনে রাষ্ট্রপতির কোনও পদ নেই। কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আছেন। আমরা যখন তাকে রাষ্ট্রপতি বলি তখন মনে হয় যেন কেউ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু চীনে গণতন্ত্র নেই। আসলে জিনপিংকে ‘রাষ্ট্রপতি’ বলা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে।

চীনের প্রধান যে সমস্ত পদে অধিষ্ঠিত, তার মধ্যে কোনটাতেই শিরোনামে রাষ্ট্রপতি নেই। চীনা ভাষায়ও (মেন্ডারিন) রাষ্ট্রপতি শব্দটির কোনও উল্লেখ নেই। ১৯৮০ সালে যখন চীনা অর্থনীতি চালু হয়েছিল, তখন চীনের শাসক ইংরেজিতে রাষ্ট্রপতি হিসাবে পরিচিত হন। তবে লোকতান্ত্রিক ভাবে তা হয়নি। জিনপিং সিসিপি প্রধান। তাই তিনি দেশের প্রধান শাসক তবে তিনি মোটেও রাষ্ট্রপতি নন। তিনি কেবল ‘রাষ্ট্রপতি’ নামে পরিচিত হন।

বিষয়টি ২০১৯ সালের। তারপরে ইউএস-চীন অর্থনৈতিক ও সুরক্ষা পর্যালোচনা কমিশনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল – চীনে গণতন্ত্র নেই। ভোট দেওয়ার অধিকার নেই এবং কথা বলারও স্বাধীনতা নেই। জিনপিংকে রাষ্ট্রপতি বলার অর্থ হল- তাঁর স্বৈরশাসনকে স্বীকৃতি দেওয়া। জিনপিং চীনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। রাজ্য চেয়ারম্যান, এর আওতায় তিনি দেশের প্রধান শাসক। কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান, এর অর্থ হল তিনি সমস্ত প্রকার চীনা সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক। তৃতীয় ও শেষ পদটি হল চীনা কমিউনিস্ট পার্টি বা সিসিপি-র সাধারণ সম্পাদক। অর্থাৎ ক্ষমতাসীন দল সিসিপি-র প্রধানও। ১৯৫৪ সালের চীনা সংবিধান অনুসারে ইংরেজিতে চীনের শাসককে কেবল চেয়ারম্যান বলা যেতে পারে।

Related posts

Leave a Comment